গ্রাম -চাকড়া, পোস্ট - কনকাবতী, জেলা - বাঁকুড়া,পিন - ৭২২১৪
ফোন - ৭০৭৪390623
ইমেইল - N/A
2022-2023
খিরী শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পাঠচক্রে সুজন মন্ডলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে সাথীর কথা জানতে পারি আমরা। যথেষ্ট মেধাবী সাথীকে বি এন্ড মেকে ভর্তি নেওয়ার কথা ওখানকার কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেন ।
একাদশ শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষার পর পুরোপুরি চলে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু না জানিয়ে সাথী এখান থেকে চলে যায় ৷ তারপর থেকে ওর আর কোন খবরাখবর আমাদের জানা নেই ৷
একাদশ শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষার পর সাথী এখান থেকে এক প্রকার লুকিয়ে চলে যায়। ওর দাদুর শরীর খারাপ বলে একদিনের জন্য এখান থেকে ওর দাদা নিয়ে গেলেও পরে ও আর ফিরে আসে না । পরে আমরা জানতে পারি গোপনে ও ওর সমস্ত জামাকাপড় এবং বইপত্র নিয়ে এখান থেকে চলে গেছে। যেদিন একাদশ শ্রেণীর রেজাল্ট বের হয় সেদিন ও, ওর বাবা এবং আর একজন ভদ্রলোককে নিয়ে স্কুলে আসে মার্কশিট নেবার জন্য। স্কুলে ওর অভিভাবক হিসাবে শুভেন ভৌমিকের নাম ছিল তাই স্কুল থেকে সাথীর বাবার হাতে মার্কশিট দেওয়া হয় না । অগত্যা সাথী, ওর বাবা এবং সঙ্গের ভদ্রলোক নিমতা বি এন্ড মেক এ আসে এবং সাথীর বাবা সাথীকে এখান থেকে চিরতরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
আমরা ওর বাবাকে অনুরোধ করি ঠিক কি কি কারণে আপনার মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে গেছেন সেটা আপনার দরখাস্তে উল্লেখ করে দিন। সাথীর বাবা সাথীকে এখান থেকে চিরতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা আবেদনপত্র জমা দেন সংস্থার সভাপতিকে অ্যাড্রেস করে। সেই পত্রে প্রথমে উল্লেখ করেন ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি’, আবার পরে লেখেন, ‘মেয়ের NEET এর প্রস্তুতি ঠিকমতো হচ্ছে না’ এবং ‘আমার মেয়ে এখানে তার পড়াশোনায় কোনো উন্নতি করতে পারেনি’। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন, ‘এখানে প্রচুর পুজো হয় এবং ছোটো বোনদের পড়াতে হয়, তাই অনেক সময় নষ্ট হয়। প্রসঙ্গত বলা যায় একাডেমিক রেকর্ডে সাথী ক্লাসের প্রথম পাঁচজনের মধ্যে একজন এবং ক্লাস ইলেভেনের বার্ষিক পরীক্ষায় বায়োলজিতে ৯৫ শতাংশ মার্কস পেয়েছিল।
আসলে সাথী কি কারণে এখান থেকে চলে গিয়েছিল সেটা আমাদের কাছে এখনো রহস্যের। যে কারণগুলোও উল্লেখ করেছিল বা বিভিন্ন জায়গায় বলেছিল তার কোনটাই বাস্তব ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত নয় একেবারেই। আমাদের অনেক আর্থিক দীনতার সময়ও কোন ছাত্র-ছাত্রী এই অভিযোগগুলো করতে পারেনি। যে সংস্থা থেকে সাথীকে এখানে রেফার করা হয়েছিল তাদের সাথীর প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব আমাদেরকে অবাক করেছে। আমরা চূড়ান্ত হতাশ হয়েছি এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁদের সম্পর্কে আমাদের মধ্যেও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।