Prasanta Giri

গ্রাম - সন্নিহারী, পোস্ট- বারানিহারী, থানা - এগরা, জেলা - পূর্ব মেদিনীপুর,পিন - ৭২১৪২

ফোন -৮৪৮১৯৬৫১৮৬

ইমেইল -prasantagiri722@gmail.com

২০১৩-২০১৫

ছত্রি বিবেকানন্দ বিদ্যাভবন স্কুলের ছাত্র প্রশান্ত মাধ্যমিকে খুব ভালো ফল করে। ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক প্রশান্তর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে ওর পড়াশুনোর জন্য তীরভূমি পত্রিকায় সাহায্যের আবেদন করেন। সেই পত্রিকা থেকে এই হোমেরই ছাত্র শ্রীকান্ত জানা প্রশান্তকে নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমে নিয়ে আসে । 

ইন্ডিয়ান পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে গ্রামীণ ডাক সেবক (ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার) হিসাবে বেলঘড়িয়ার দেশপ্রিয়নগর সাব পোস্ট অফিসে কর্মরত। 

মানুষের জীবনে সফল বা বিফল হওয়াটা সব সময় বোধহয় নিজের হাতে থাকে না। বিশেষত যদি কেউ সহৃদয়, বিবেকবান, দায়িত্বশীল হয় তাহলে তো নয়ই। হৃদয়ের ঘানিতে পিষ্ট হয়ে কখন যে তার স্বপ্ন, লক্ষ্য তার থেকে ক্রমাগত দুরে সরে যায় তা সে নিজেও জানে না। অবশ্য জানলেও কিছু করতে পারে না সে, ঠিক যেমনটি ঘটেছে প্রশান্ত গিরির জীবনে। জীবন যুদ্ধে প্রশান্ত এক নিরলস আপোসহীন সংগ্রামী । 

একই বছর নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোম এ আবাসিক ছাত্র হিসাবে নির্বাচিত হয় কার্তিক মহন্ত ও প্রশান্ত গিরি। দুজনেই দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান। দুজনেই খুবই পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, অনুগত – নিজের কাজে যথেষ্ট পরিমাণ দায়িত্ববান। অল্প সময়ের মধ্যে দুজনের মধ্যে খুব সুন্দর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। শুরু হয় দুজনের একসাথে পথ চলা, লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। বি এন্ড মেক থেকে বেরিয়ে গিয়ে ওরা দুজনেই কম খরচে একটা মেস বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এবারের লক্ষ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সে মেডিকেলে ক্রাক করা। ক্রাক করেছিল কিন্তু যা rank এসেছিল, তাতে সরকারি কলেজে চান্স পাবে না । অগত্যা, আবার প্রস্তুতি। কিন্তু প্রশান্তর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পারিবারিক সমস্যা। দাদা অসুস্থ, বাবা মাও অসুস্থ। সাংসারিক চাপ ওকে বাধ্য করেছে সব আশা আকাঙ্খা, লক্ষ্যকে গলা টিপে মেরে ফেলতে। ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে ত্যাগ করে প্রিয় বিষয় কেমিস্ট্রি নিয়ে ভর্তি হয় বিরাটি মৃণালিনী কলেজে। লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাস করে একটা চাকরি যোগাড় করা। পাশ করার পর জোগাড় ও হয়ে যায় পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে গ্রামীণ ডাক সেবকের চাকরি। পড়াশুনা করে আরো উঁচুতে ওঠার সাধ এখনো টিকে আছে প্রশান্তর মধ্যে। বাড়ির পরিবেশ, প্রতিবন্ধকতা, বাবা-মায়ের অসুস্থতা এখনই প্রশান্তকে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু অনড় প্রশান্ত। আরো প্রতিষ্ঠিত হতে হবে জীবনে – একটাই লক্ষ্য ওর। প্রশান্তর সঙ্গে কথা বলার সময় আমরা অনুভব করেছি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্নটা, খিদেটা এখনো মরে যায়নি। ভেতরের আগুনটা এখনো নিভে যায়নি। হাজারো দুঃখ কষ্টে সদা প্রাণবন্ত প্রশান্ত প্রশান্তই আছে। অকপটে স্বীকার করল খুব কষ্টের হলেও এই চাকরি ছেড়ে আমাকে আরো ভালো চাকরি পেতেই হবে, জীবনে আরো প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে আমাকে।

Go Back Top