গ্রাম - সোনাই চন্ডিপুর, পোস্ট - মেজিয়া, জেলা - বাঁকুড়া, পিন - ৭২২১৪২
ফোন-৮৫০৯৩৪৮০৬০
ইমেইল - biswaslabani26@gmail.com
২০২১-২০২৩
সম্পর্কে লাবনী এখানকার আবাসিক সৌরভ বিশ্বাসের পিসি। সৌরভের বাড়িতে কথা বলতে গিয়ে লাবনীর কথা জানতে পারি আমরা। লাবনীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে লাবনীকে মেয়েদের হোমে থাকার জন্য বিবেচনা করা হয় ।
উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর আসানসোলের বি বি কলেজে জুওলোজি তে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিল লাবনী। হঠাৎই বিশেষ সূত্রে আমরা খবর পাই লাবনী বিয়ে করেছে এবং বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল বিহারের ছাপরা জেলায় বসবাস করছে।
নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমের নিয়ম, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে ভর্তির আগে তার বাড়ির পরিবেশ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা । সৌরভের বাড়িতে কথা বলতে গিয়ে ওর পিসি লাবনীর সঙ্গে আমাদের আলাপ হয় । সৌরভ এবং লাবনী একই বছর মাধ্যমিক পাস করেছে। লাবনীর সঙ্গে কথা বলে আমাদের ওকে খুব সম্ভাবনাময় বলে মনে হয়। ওর ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়া কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে ও উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। আমরাও তখন ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আবাসিক হোম শুরুর ভাবনা চিন্তায় মগ্ন। লাবনীকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করানোর ব্যাপারে আমরা এতটাই আগ্রহী হই যে সেদিনই আমরা ওর বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সম্মতি নিয়ে আসি। তখনো মেয়েদের জন্য আবাসিক হোম চালু হয়নি ।
বলা যায়, লাবনীর কথা ভেবেই ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, তড়িঘড়ি মেয়েদের জন্য আবাসিক হোম চালু করা হয় আলাদা বাড়িতে। গ্রামের দিকে মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে মেয়েদের নিজস্ব জীবন, চিন্তাভাবনা, স্বাধীনতা সবকিছুই সংসারের চাপে চাপা পড়ে যায়। মেয়েদের আবাসিক হোম শুরু করার পিছনে আমাদের ভাবনা ছিল মেয়েদেরকে কিছুটা হলেও স্বাধীন চিন্তা এবং শিক্ষা দীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা। যার জন্য এই হোমে সাধারণত মেয়েদের অষ্টম এবং একাদশ
শ্রেণীতে ছাত্রী ভর্তি নেওয়া হয়। আক্ষরিক অর্থে লাবনী হল নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমের মেয়েদের বিভাগে প্রথম আবাসিক। উচ্চমাধ্যমিকে একেবারেই ভালো ফল হয় না লাবনীর এবং গ্রাজুয়েশনে ভর্তির অল্প দিনের মধ্যেই লাবনীর বিয়ে হয়ে যায়। খবরটা শুনে আমরা খুবই মর্মাহত হই।
নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমের কাছে এটা একটা চূড়ান্ত হতাশার খবর ।