গ্রাম-হাতিবাড়ি, পোস্ট-বন্দুব্রজপুর, থানা সিমলাপাল, জেলা-বাঁকুড়া, পিন-৭২২১৫১
ফোন – ৯৭৪৯২৪১৮৭৪
ইমেইল -kartikmahanta.k.m@gmail.com
২০১৩-২০১৫
কার্তিক বেলঘড়িয়া রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক হোমে থাকার জন্য আবেদন করেছিল কিন্তু সেখানে সুযোগ না হওয়ায়
সেখান থেকে খবর পেয়ে নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোম এ আসে।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সেস (AIIMS), কল্যাণীতে হাউসস্টাফ হিসেবে কর্মরত
বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের এক প্রত্যন্ত গ্রাম হাতিবারি গ্রামে চাষাবাদ করে সংসার চালানো বাবা মা এর তিন ছেলের কনিষ্ঠতম সন্তান। লক্ষ্য পূরণে অবিচল, জীবন সংগ্রামে হার না মানা, অসম মানসিকতা অথচ লক্ষ্যে অবিচল, সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা সহায় সম্বলহীন তরুণ। ইন্টারভিউয়ের সময় ওকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তোর জীবনের লক্ষ্য কি? ও জানায়, ওর একমাত্র লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। বলা বলেছিল, লক্ষ্য তো অনেকেরই অনেক কিছু থাকে, সব সময় তো তা পূরণ হয় না। সেক্ষেত্রে তোর বিকল্প ভাবনা কি? সবাইকে বেশ অবাক করে ও বলেছিল, আমার একটাই অপশন, ডাক্তারি। যেভাবেই হোক আমাকে ডাক্তার হতেই হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পরে কথা প্রসঙ্গে কার্তিকের মা চোখের জল ফেলতে ফেলতে একান্তে রিনা ভৌমিককে বলেছিলেন, কতদিন ছেলেটাকে খেতে দিতে পারিনি। কখনো আধ-পেটা খাবার দিয়েছি, কখনো কিছুই দিতে পারিনি। সব কিছুর পরেও কার্তিক মহন্ত আজ ডাক্তার। ইতিমধ্যেই ও এবং ওর সহপাঠী বন্ধুরা মিলে বাঁকুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে বিনা
পয়সায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকে সঙ্গে ওষুধও। ওদের সংগঠন ‘আশ্বাস’ মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করতে পেরেছে সবাই এক না, এখনো অনেক মানুষ আছে যাঁরা এখনো মানুষের কথা ভাবে।।