গ্রাম, পোস্ট - হরালি, থানা- উদয়নারায়ণপুর, জেলা - হাওড়া,পিন - ৭ ১১২২২
ফোন- ৯০০২১৮৬৩০২
ইমেইল - N/A
২০২১-২০২৩
হরালি গ্রামের তরুণ কান্তি ব্যানার্জি, অরবিন্দ ব্যানার্জি এবং বীরেন্দ্রনাথ করণ এর সাথে নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমের নিবিড় যোগাযোগ। তাঁদের সূত্রেই ইতিশ্রীর বি এন্ড মেকে আসা ।
নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোম থেকে ক্লাস নাইনে পাঠরত থাকাকালীন ইতিশ্রী কে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার পর উদয়নারায়ণপুর অঞ্চলের কাছাকাছি কোন স্কুলে ভর্তি হয়। তারপর থেকে ওর সঙ্গে হোমের কোন যোগাযোগ নেই ।
২৭
মেয়েদের জন্য আবাসিক হোম চালু হওয়ার পর উদয়নারায়নপুর ব্লকের হরালি গ্রাম থেকে তিনজন একসঙ্গে ক্লাস সেভেনের মাঝামাঝি সময়ে এই হোমে আসে । এই তিনজন হলো কৃষ্ণ মাজি, তৃষা মাজি এবং ইতিশ্রী শাসমল । সেই সময়ে লকডাউনের জন্য সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ ছিল। তাই বাকি কয়েক মাস এখানে থেকে পড়াশোনা করে বছরের শেষে ক্লাস সেভেনের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে আবার হোমে ফিরে আসে ইতিশ্রী। এরপর ক্লাস এইটে এখানকার স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় ইতিশ্রীকে। অষ্টম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ও খুব ভালো ফল করে। আমাদের ওকে খুব সম্ভাবনাময় বলে মনে হয় ।
কিন্তু ওর ক্ষেত্রেও ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকে বিভিন্ন রকম চারিত্রিক পরিবর্তন দেখা যেতে থাকে। ২০২৩ সালের মে-জুন মাসে হোম এর ভাই বোনদের নিয়ে দার্জিলিং ভ্রমণে যাওয়া হয়েছিল। খুবই মনোরম এবং চিত্তাকর্ষক হয়েছিল সেই ভ্রমণ । কিন্তু সেখান থেকে ফিরে আসার পর ইতিশ্রীর বিভিন্ন রকম কার্যকলাপ আমাদের নজরে আসে, যা আমাদের শুধু স্তম্ভিত করে না আমাদের চূড়ান্ত অপমানিত করে। বিভিন্ন রকম কুস্বভাব ধরা পড়তে থাকে। যাঁরা ওকে পিতা-মাতার স্নেহে এখানে আগলে রাখে তাঁদের সম্পর্কেও অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর কথা বলতেও দ্বিধা করে না। ওকে বারবার শোধরানোর চেষ্টা করেও কোনো রকম ফল পাওয়া যায় না। ওর খামখেয়ালীপনা, হোম পরিপন্থী কাজকর্ম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমাদের সামনে আর কোন উপায়ান্তর থাকে না। আমরা ইতিশ্রীকে আর হোমে না রাখার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিই এবং নির্দিষ্ট দিনে ওর বাবা মা এবং গ্রামের যাঁদের সহায়তায় ইতিশ্রীরা এখানে এসেছিল তাঁদেরকে ডেকে ওকে চিরতরে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমরা খুবই হতাশ হলেও বাকি মেয়েদের কথা চিন্তা করে এবং হোমের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আমরা এতোটুকুও কুণ্ঠিত হই না ।