গ্রাম - অমরাবতী, পোস্ট - লক্ষ্মিপুর প্রবর্তক, থানা - ফ্রেজারগঞ্জ (কোস্টাল), জেলা - দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পিন - ৭43357
ফোন - ৯০৪৬৬৬৯৯৪৯
ইমেইল - debjyotidas2005@gmail.com
২০২১-২০২৩
নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোম এর প্রাক্তন ছাত্র স্বর্ণেন্দু পাল এবং দেবজ্যোতি একই স্কুল নামখানা অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করত। স্বর্ণেন্দুর কাছ থেকেই খবরাখবর পেয়ে দেবজ্যোতি নিমতা বি এন্ড মেক এ আসে ৷
ইন্ডিয়ান পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে গ্রামীণ ডাক সেবক (ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার) হিসাবে পাথরপ্রতিমার আই প্লট এর লক্ষ্মী
২৪
জনার্দনপুর গ্রামের সাব পোস্ট অফিসে কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি ডিসট্যান্সে অংকে অনার্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন করছে দেবজ্যোতি, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিভিন্ন সরকারি কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় বসা ।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাস করে এবং বি এন্ড মেক এ আসে দেবজ্যোতি। বাবা নিজেদের অল্প জমি-জমাতে নিজেরাই চাষবাস করেন এবং পার্ট টাইমে লক্ষ্মীপুর প্রবর্তক আশ্রমে ছেলেমেয়েদের পড়ান। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ইন্ডিয়ান পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে গ্রামীণ ডাক সেবক পোস্টে সিলেক্টেড হয়। যদিও বি এন্ড মেকে ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার মেয়াদকালে নির্দিষ্ট কিছু কম্পিটিটিভ পরীক্ষা বাদে অন্য কোন পরীক্ষায় বসার নিয়ম নেই তবুও দেবজ্যোতি ওর বাবার জোরাজুরিতে আমাদের আড়াল করেই গ্রামীণ ডাক সেবক পোস্টে আবেদন করে। অংক পরীক্ষার আগের দিন দেবজ্যোতির বাবা একরকম জোর করেই বি এন্ড মেক থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে যান। তখনো উচ্চমাধ্যমিকের তিনটি পরীক্ষা বাকি ছিল।
এখানে আসার পর প্রথম থেকেই দেবজ্যোতির লক্ষ্য ছিল নিট (NEET) পরীক্ষা ক্রাক করা। এখানে ওকে সেই ভাবেই প্রশিক্ষিত করা হচ্ছিল। বিশেষ কিছু প্রস্তুতির সুযোগ সুবিধা করে দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র ওর জন্য। ও এবং আমরাও যথেষ্ট আশাবাদী ছিলাম ও নিট পরীক্ষায় সফল হবে। প্রাথমিকে দেবজ্যোতি নিজের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ত্যাগ করে গ্রামীণ ডাক সেবক পোস্টের চাকরির জন্য এখান থেকে চলে যেতে চায়নি কিন্তু ওর বাবা সবার সামনে যখন বলেন, ‘এই চাকরি না করলে তিনি আর ছেলের কোনো দায়িত্ব নেবেন না’, তখন কারোর কিছু বলার থাকে না। ছেলের আপত্তি, আমাদের সব রকম আবেদন নিবেদন যুক্তিকে নস্যাৎ করে দিয়ে দেবজ্যোতিকে এখান থেকে নিয়ে চলে যান ওর বাবা। আমরা চূড়ান্ত হতাশ হই, দেবজ্যোতি ও তাই। একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল বলে এখনো আমরা মনে করি ।
‘Alumni’পুস্তিকা প্রকাশের জন্য অনেক কষ্টে দেবজ্যোতির ফোন নাম্বার জোগাড় করে কিছু জানার জন্য কথা হচ্ছিল। খুবই নরম এবং শান্ত গলায় কথা বলছিল দেবজ্যোতি। কথাবার্তার মধ্যেই একটা চাপা হতাশা ছিল বলে মনে হয়েছিল। স্যার (শুভেন ভৌমিক), দিদি (রিনা ভৌমিক) এবং হোমের সবার খবরাখবর নিতে ভুল হয়নি ওর। বলছিল এখান থেকে চলে যাবার পরেও মেডিকেল পরীক্ষার আশা ওর মধ্যে ছিল কিন্তু পড়াশুনোর যথাযথ পরিবেশের অভাব ও পারিবারিক কারণে ও আর এগোতে পারেনি। খুব স্পষ্ট করেই বলেছিল, “খুবই আশাবাদী ছিলাম তাই তো চুড়ান্ত হতাশ হয়েছিলাম কিন্তু কি আর করা যাবে বলুন……’ !
চোদ্দ বছর নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোম পরিচালনার পর আমাদের কাছে এ এক বিরল অভিজ্ঞতা !!