গ্রাম, পোস্ট - হরালি, থানা - উদয়নারায়ণপুর, জেলা - হাওড়া, পিন - ৭১১২২৬
ফোন-৮৬৯৭৮১১৩৭২
ইমেইল -abpananda555@gmail.com
২০১৫-২০১৭
উদয়নারায়নপুর ব্লকের অন্তর্গত হরালি গ্রামের অরবিন্দ ব্যানার্জী,বীরেন্দ্রনাথ করণ (বিটুন দা) ও তরুণ কান্তি ব্যানার্জীর পরামর্শে আনন্দ যোগাযোগ করে নিমতা বি অ্যান্ড মেক-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শুভেন ভৌমিকের সঙ্গে।
M/s. Larsen and Toubro-তে Minerals & Metals, Strategic Buisness Group (SBG) বিভাগে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পোস্টে কর্মরত।
হাওড়ার উদয়নারায়নপুর ব্লকের অন্তর্গত হরালি গ্রামে এক অত্যন্ত গরিব পরিবারের বাবা মায়ের তিন মেয়ের (বর্তমানে তিনজনই বিবাহিতা) পর একমাত্র ছেলে আনন্দ। ছোট থেকেই বেশ কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠে আনন্দ। বাবা মুলত নিজের অল্প কিছু জমিতে চাষাবাদ করেন আর বাকি সময় অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন। আনন্দর মা ও ঘর
১৫
গেরস্থালির কাজের পর ওর বাবার সাথে চাষের কাজে সাহায্য করেন। মাধ্যমিকে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করে আনন্দ কিন্তু এরপর কি করবে, কোথায় পড়াশোনা কিছুই ও জানে না। হরালি গ্রামের অরবিন্দ ব্যানার্জী, বীরেন্দ্রনাথ করণ (বিটুন দা) ও তরুণ কান্তি ব্যানার্জীর পরামর্শে নির্দিষ্ট দিনে আনন্দ আসে বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমে এবং প্রাথমিক কিছু কথাবার্তার পর ওর নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমে থাকা নিশ্চিত হয়। এর আগেও অরবিন্দদা, বিটুন দা, তরুণ দার হাত ধরে নিমতা বি অ্যান্ড মেক স্টুডেন্টস হোমে বেশ কয়েকজন ছাত্র এসেছে হরালি গ্রাম থেকে। হায়ার সেকেন্ডারিতে বেশ ভালো রেজাল্ট করে আনন্দ। তারপর পলিটেকনিক জয়েন্ট দিয়ে বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে ওর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা পড়া শুরু। আনন্দর বাড়ির অবস্থা এতটাই খারাপ যে সেই সময়ে বাইরে কোথাও রেখে বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। সাধারণত নিমতা বি অ্যান্ড মেক স্টুডেন্টস হোমে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের পঠন পাঠনের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু আনন্দর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ওকে এখানে থাকতে সুযোগ করে দেওয়া হয় ৷
‘বাবা-মা চরম দারিদ্রতা সত্ত্বেও গ্রামের অন্যান্যদের মতো গ্যারেজে বা সোনার কাজে না লাগিয়ে পড়াশুনা করতে অনুপ্রাণিত করায় আমি বাবা-মার কাছে চরম কৃতজ্ঞ’ পুনর্মিলন উৎসব, ২০২৩ এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবা মা সম্পর্কে কথাগুলো বলেছিল আনন্দ ।
আনন্দর বুদ্ধিমত্তা এবং দায়িত্ববোধ ওকে সবসময়ই অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। যেকোনো কাজে ওর একাগ্রতা ও নিষ্ঠা ওকে সাফল্য এনে দিয়েছে অনায়াসে। পড়াশুনার সাথে সাথে নিজের এবং হোমের অন্য ভাইদের সমস্ত রকম দায়িত্ব সামলেও খেলাধুলা, নাটক করা থেকে বিভিন্নরকম সামাজিক দায়িত্ব পালনে ও প্রথম সারিতে। বিধ্বংসী আমফান ও ভয়াবহ যশ এর পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিমতা ‘অসময়ে’ র তরফে বেশ কয়েকবার আমরা যে ত্রাণকার্য করেছি, সত্যি করে বললে আনন্দ সেই কাজ পরিচালনায় ছিল সেকেন্ড কমান্ডার। রিলিফের সামগ্রী প্যাকেটবন্দী করা থেকে মানুষের হাতে রিলিফ তুলে দেওয়া সবেতেই আনন্দ। করোনার সময়ে করোনা রোগীর বাড়িতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল ‘অসময়ে’ র তরফে, প্যাকেট করা থেকে খাবার রুগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ একটা অঞ্চলের পুরো দায়িত্ব পালন করতো আনন্দ। আসলে, যে কোনো কাজই আনন্দ করে হাসি মুখে আন্তরিকতার সঙ্গে। ওর বিশেষত্ব এখানেই। আমরা নিমতা বি এন্ড মেক স্টুডেন্টস হোমের সদস্য শুভানুধ্যায়ীরা আনন্দর ভবিষ্যৎ সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত।